ডিএমপিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু

বৈচিত্র ডেস্ক :  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিসহ বেশকিছু অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ থানা থেকে সরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ডিএমপির আট থানার ওসিকে বদলি এবং তিন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়ে শুদ্ধি অভিযানের যাত্রা শুরু করেন তিনি। কয়েকদিনের মধ্যে আরও ২০টি থানার ওসিকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।

মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ১১ জন ইন্সপেক্টরকে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন- ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিককে পল্টন মডেল থানায়, কলাবাগান থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত খানকে মতিঝিল থানায়, খিলক্ষেত থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে মিরপুর মডেল থানায়, শ্যামপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমানকে কোতোয়ালি থানায়, উত্তরা-পূর্ব থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পরিতোষ চন্দ্রকে কলাবাগান থানায়, বিমানবন্দর থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তারুজ্জামানকে ভাটারা থানায়, সবুজবাগ থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মফিজুল আলমকে শ্যামপুর থানায় এবং বনানী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিনকে খিলক্ষেত থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একই আদেশে মতিঝিল থানার ওসি মো. ওমর ফারুককে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগে, মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. দাদন ফকিরকে গোয়েন্দা দক্ষিণ ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সাহিদুর রহমানকে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে তাদের যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ৪ অক্টোবর থেকে তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, তারা (বদলি হওয়া ওসি) এ পদে থাকার যোগ্য নন, তাই তাদের সরানো হয়েছে। তারা ভালো কিছু দিতে পারবেন না। যে পর্যন্ত দেয়ার ছিল তারা দিয়ে ফেলছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার এ আদেশ অনিয়ম এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা। সতর্ক না হলে একই পরিণতি অন্যদের জন্যও অপেক্ষা করছে।

নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হককে সোমবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল বলেন, এ রকম আরও দু-একজন অফিসার আছে। তাদের বদনাম কানে আসছে। তাদের পরিণতিও একই হবে।

তিনি আরও বলেন, যে ক’জনকে বদলি করা হয়েছে তারা মনে করতেন ডিএমপির সবচেয়ে ক্ষমতাধর লোক তারা। কিন্তু সবার ক্ষমতা সীমিত। আমার ক্ষমতাও সীমিত। তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করলে ওসিরা থাকতে পারবেন আর ক্ষমতার বড়াই দেখালে তারা থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, ওসিদের কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কয়েকজন ওসিকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, আপনাদের কাজগুলো আমাদের পছন্দ হচ্ছে না। যদি সংশোধন হন তাহলে থাকতে পারবেন, না হলে থাকতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, ওসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনারের এ হুশিয়ারির পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমজমাট জুয়া এবং ক্যাসিনোর আসর পাওয়া যায়।

মতিঝিল থানার পেছনে ক্লাবে জুয়ার আসরের বিষয়টি উদ্ঘাটনের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এর জন্য অনেকে মতিঝিল থানার ওসির দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ তোলেন। এছাড়া এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হন পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক। এ থানায় নতুন ওসি দেয়া হয়েছে।

ডিএমপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বদলি হওয়া ওসিদের অনেকে ১০ বছর ধরে ঘুরেফিরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় আছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে হুট করে থানায় অনভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে থানাগুলোর ইন্সপেক্টরদের (তদন্ত, অপারেশন্স ও অ্যাডমিন) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *