আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার জন্মদিনে বর্ণাঢ্য আয়োজন

বৈচিত্র ডেস্ক :   ১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ছিল প্রত্নতত্ত্ব গবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার ১০১তম জন্মদিন। তার লেখা বই নিয়ে ছোট্ট পরিসরের প্রদর্শনী, আলোচনা ও গানে গানে দিবসটি উদযাপন করেছে ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটি।

বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন ইশরাত জাহান কাঁকন, সেজুতি নওরোজ, অরুণা সরকার, যাকারিয়ার মেয়ে সুফিয়া আতিয়া যাকারিয়া।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ছিলেন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও সুশিক্ষিত মানুষ। সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও সামাজিক-সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের ঘাটতি থাকে।

সত্যিকারের মানুষ যারা, তাদের ভেতরে এই গুণগুলো থাকে। যাকারিয়া ছিলেন এসব গুণের অধিকারী। তিনি বেশ পরিণত বয়সেই চলে গেছেন।

তবে তিনি আরও কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থাকলে আরও পরামর্শ দিতেন, দিকনির্দেশনা দিতেন এবং আরও কিছু বই লিখতেন। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার লেখা বইগুলো গবেষকদের জন্য অমূল্য দলিল।

যাকারিয়ার ছেলে মারুফ শমসের যাকারিয়া বলেন, বাবার জন্মের সময় দাদার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। বয়স ছিল ষাটের বেশি। বাবাকে ভর্তি করা হয়েছিল মাদ্রাসায়।

দাদির কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাবা সাধারণ পড়ালেখার জন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। জ্ঞানের জন্য তার যেমন পিপাসা ছিল, জ্ঞান বিতরণেও ছিল ভীষণ আগ্রহ। পড়াশোনার জন্য মাত্র ৬ মাস তিনি আমেরিকায় ছিলেন।

সামান্য কিছু টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকায় তখন প্রায় একশ’টি দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। বাবার বইগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গ্রন্থাগারে দেয়া গেলে মানুষ উপকৃত হতো।

সবশেষে যাকারিয়ার লেখা গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস অবলম্বনে ঐতিহ্যবাহী যোগীর গান পরিবেশন করেন নাটোরের দিঘাপতিয়ার বেলাল প্রামাণিক ও তার দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *