বগুড়ার গাবতলী: সৌরবিদ্যুতে আলোকিত পিছিয়ে পড়া নারীরা

বৈচিত্র ডেস্ক : সৌরবিদ্যুতে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে গ্রামে। চারদিকে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। এই উন্নয়ন থেকে বাদ পড়েনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাও। দিনের পর দিন সরকারের সোলার প্রকল্পের উন্নয়নে পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র, পাল্টে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা নারীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। বৈদ্যুতিক আলোর সুবিধা নিয়ে নারীরা বিভিন্ন ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হচ্ছে। তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারছেন না।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাট ইউনিয়নের লালখাপাড়া গ্রামের মিনারা খাতুনের পরিবার এখন সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। বর্তমানে তার জীবনধারায়ও এসেছে অনেক পরিবর্তন। সৌরবিদ্যুৎ দিয়েই সে এখন ফ্যান ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। শুধু মিনারা খাতুনই নয়, একই গ্রামের মমেনা খাতুনের সন্তানরাও কেরোসিনের কুপির বদলে বিদ্যুতের ঝলমলে আলোতে মনের আনন্দে পড়ালেখা করতে পারছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি এই এলাকার অনেক নারী এখন সৌরবিদ্যুতের আলোয় রাতের বেলায় বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ করতে পারছেন। অনেকে নকশিকাঁথা সেলাই, কুটির শিল্পের কাজসহ নানাভাবে মাসে ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত টাকা আয় করছেন।মিনারা খাতুন বলেন, প্রতিদিন কেরোসিন তেল কিনে সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য আমার নেই। তাই সন্ধ্যার আগে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়তে হতো। এখন সোলার থাকায় আর তেল কিনতে হয় না। রাতে ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে পারছে। আমিও বিভিন্ন সাংসারিক কাজ করতে পারছি।

মমেনা খাতুন বলেন, অন্ধকার ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সৌরবিদ্যুৎ আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে এনেছে। বর্তমানে আমাদের জীবনধারা পাল্টেছে। আগে সন্ধ্যার মধ্যে সব কাজ শেষ করে ফেলতে হতো, এমনকি রাতে চারদিক অন্ধকার থাকায় কোনো দরকারি কাজে বাইরে বের হতে পারতাম না। এখন কেরোসিনের কুপির প্রয়োজন পড়ে না। সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছি আমরা।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সহযোগী প্রতিষ্ঠান রুরাল সার্ভিসেস ফাউন্ডেশন (আরএসএফ) বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় টিআর কাবিটা প্রকল্পের অধীনে এই সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে। আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই নবায়নযোগ্য শক্তি বাস্তবায়ন কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করছে সরকারি মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইডকল। ইডকল দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার হোম সিস্টেম, সোলার সড়কবাতি, বৃহদাকার সোলার সিস্টেম, বায়োগ্যাস ও উন্নত চুলা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ প্রসঙ্গে আরএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, গাবতলী উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ২৫০টি গ্রামে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এক হাজার তিনটি সোলার হোম সিস্টেম, ২৩৬টি সোলার সড়কবাতি এবং ১৫টি সোলার এসি সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। চার অর্থবছরে টিআর কাবিটা প্রকল্পে প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৭ টাকার সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আরএসএফ।

গাবতলীর চকবোচাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজমিলা বেগম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে এই এলাকার জনগণ অনেক সুফল পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন রাতের বেলায় নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে। এছাড়া বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মে পল্লী অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বালিয়াদিঘী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ঘরে ঘরে জ্বলছে বিদ্যুতের আলো। এলাকাগুলোতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এছাড়া এই প্রকল্পটি এলাকায় ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *