হিমেল হাওয়ায় শীতের দিনে

বৈচিত্র ডেস্ক : বাইরে শীতের সন্ধ্যা, চার দেয়ালের মাঝে অফিস সহকর্মী কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে কখনও গল্প-আড্ডার আওয়াজ, কখনও কাঁটা চামচের টুংটাং শব্দ, সঙ্গে বাজছে সুরেলা কোনো মিউজিক।

কিংবা শীতের সন্ধ্যায় ঘাসের ওপর চুলা বানিয়ে মুরগি পোড়ানোর আলোয় আলোকিত চারপাশ, সঙ্গে পোড়া মুরগির গন্ধ, চলছে গল্প-আড্ডাও।

আসলে শীতে উৎসব অনুষ্ঠানে যাওয়ার উপলক্ষ থাকে অনেক। শীতের ক্যাজুয়াল অনুষ্ঠানে লম্বা কামিজ বা কুর্তার চেয়ে পুরোপুরি পাশ্চাত্য ঢঙের টপের সঙ্গে পরতে পারেন জিন্স কিংবা জেগিংস।

ক্যাজুয়াল পার্টি কিংবা আড্ডাতে ব্লেজার, ডেনিম লং জ্যাকেট বা কটির মতো স্টাইলিশ আউটফিট বদলে ফেলতে পারেন আপনার রেগুলার লুক। জিন্স টপস, টিউনিক, শ্রাগ, শার্ট ড্রেস, ফুলস্লিভ টি-শার্ট এই শীতে স্টাইলিশ ক্যাজুয়াল। জিন্স, গ্যাবারডিংয়ের সঙ্গে এ ধরনের ওয়েস্টার্ন পোশাক অনেক বেশি মানানসই। শীত সংগ্রহে রাখতে পারেন নানারকম স্টাইলিশ উলেন টপস। সঙ্গে ম্যাচিং স্কার্ফ, টুপি কিংবা মাফলার সহজেই নিয়ে আসবে স্টাইলিশ লুক।

হালকা শীতে রাতের পার্টিতে ফুলস্লিভ টি-শার্ট বা ফরমাল শার্টের সঙ্গে ব্লেজার আপনাকে দেবে স্টাইলিশ লুক। অফিস প্রেজেন্টেশন কিংবা পার্টিতেও পারফেক্ট ব্লেজার। হালফ্যাশনে স্টাইলিশ শর্ট বডি ফিটিং হ্যান্ডস্টিচ, অ্যাম্ব্রয়ডারি, বাটনলেস, টপসিন, বেনকলার, শার্ট কলারসহ বিভিন্ন ডিজাইনের ক্যাজুয়াল ব্লেজার চলছে।

এখন অনেক ব্লেজার এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যেটা ফরমাল ও ক্যাজুয়াল দুই পরিবেশেই মানিয়ে যায়। ব্লেজারের প্যাটার্নের ক্ষেত্রে এবারও সাইড ওপেন চলছে।

তরুণীদের ব্লেজারের ডিজাইনের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্ট্রিচ, অ্যাম্ব্রয়ডারি, প্রিন্ট ও হাতের কাজ জনপ্রিয়। টপস, শার্টড্রেস, হালকা নকশার টি-শার্টের সঙ্গে ব্লেজার ভালো লাগবে। শীতে সুতি, রেমি কটন, মখমল, ডরমেনি, টুইড কাপড়ের ব্লেজারের চাহিদা বেশি।

ছেলেদের তো বটেই মেয়েদের কাছেও এখন জিন্স, লেদারের জ্যাকেট জনপ্রিয়। জিন্স কিংবা লেদারের পাতলা জ্যাকেট অফিসে ক্যাজুয়াল ওয়্যার বা সান্ধ্য পার্টি থেকে নৈশ আড্ডা সব পরিবেশেই দারুণ মানিয়ে যায়।

লেদারের জ্যাকেটের মধ্যে বেসিক ওয়েস্টলেস জিপ ফ্রন্ট জ্যাকেট, ক্লাসিক লেন্থ জিপ ফ্রন্ট কিংবা টু বাটন, ফোর বাটন, ইলাস্টিকসহ বোম্বার স্টাইল জ্যাকেট হালফ্যাশনে বেশ জনপ্রিয়।

অনেক পকেট বসানো হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ডেনিম কটি কিংবা লং জ্যাকেটও পরতে পারেন এই শীতে। মেয়েদের সব ধরনের ব্লেজার, জ্যাকেট এখন পাওয়া যাচ্ছে আকাশি, নীল, লাল, গাঢ় ম্যাজেন্টা, মেরুনসহ নানারকম উজ্জ্বল রঙে।

ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সঙ্গে সাজসজ্জা হতে হবে একদমই বুঝেশুনে। দিনের বেলায় হালকা সাজে পাউডার-কাজল আর ঠোঁটে ন্যুড রঙা ক্রিম লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। রাতের অনুষ্ঠানে ময়েশ্চারাইজার বেজড ফাউন্ডেশন লাগিয়ে কনসিলার ও ফেসপাউডার দিন। ব্রোঞ্জ, বাদামি, গোলাপি ব্লাশন পার্টি সাজে ভালো লাগবে। চোখে কাজল, আইলাইনার আর চোখের ওপরের পাতায় নীল, সবুজ, সোনালি, রুপালি গ্লিটার শ্যাডো ভালো লাগবে।

রাতের সাজে ঠোঁটে গোলাপি, ম্যাজেন্টাসহ পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং যে কোনো গাঢ় রঙের লিপস্টিক মানাবে। কোট, ব্লেজার, লং জ্যাকেটের সঙ্গে চুল উঁচু করে স্টাইলিশ ঢঙে খোঁপা কিংবা প্যাঁচিয়ে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে পারেন। টপস, টিউনিক, লং কটি, শ্রাগ বা কুর্তির মতো ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে আয়রন, রোলার কিংবা হালকা কার্ল করে নিলে স্টাইলিশ লুক আসবে।

এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। এ জন্য মুখ ধোয়ার পর ভেজা ত্বকে ময়েশ্চার সমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করুন। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করতে শীতে নিয়মিত গ্লিসারিন মাখতে পারেন।

একভাগ গ্লিসারিনের সঙ্গে দুই ভাগ পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। গ্লিসারিন মাখার পর হালকা ভিজে একটি তোয়ালে ত্বকে চেপে ধরলে ত্বকের আঠা আঠাভাব চলে যাবে। ত্বকের কোমলতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রতিদিন দুধের সরের সঙ্গে ময়দা বা বেসন মিশিয়ে ব্যবহার করুন। শীতে ত্বকে মরা কোষ বেশি জমে। ত্বকের মরা কোষ দূর করতে ১৫ দিনে একবার পার্লারে গিয়ে ডিপক্লিন করুন।

সপ্তাহে দুদিন বাসায় স্ক্রাবিং করুন। ত্বকের শুষ্কতা কমবে ও উজ্জ্বলতা বাড়বে। শীতের রোদে আলট্রাভায়োলেট বেশি থাকায় বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগাতে হবে।

ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে নিয়মিত ভ্যাসলিন লাগান। এ ছাড়া প্রতিদিন কাঁচা দুধ তুলোয় ভিজিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। ঠোঁট উজ্জ্বল ও কোমল থাকবে। শীতে ত্বকে ব্রণ, র‌্যাশ বেশি হয়। ত্বকের এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কমলা ও টমেটোর রস উপকারী।

শীতে শরীর ও মন সুস্থ রাখতে যোগব্যায়াম জাদুর মতো কাজ করে। যোগব্যায়াম শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে, কর্মচাঞ্চল্য ধরে রাখে, সর্দি, কাশি, হাঁপানিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে। সঙ্গে শীতটাকেও করে তোলে উপভোগ্য। শীতে বাজারে বিভিন্নরকম শাকসবজি ও ফলমূল পাওয়া যায়। শীতের শাকসবজি, ফলমূল বেশি খেলে স্বাদের সঙ্গে শরীরের পুষ্টির অভাবও পূরণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *