জলরঙে মানুষ প্রকৃতির গল্প

বৈচিত্র ডেস্ক : মামুনের ছবিতে যেন ছোটো গল্পের আমেজ—বলছিলেন শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস। সত্যিই তাই, চায়ের দোকানে মানুষের জমায়েত, গ্রামের হাটের মানুষের ব্যস্ততা, ঝুম বৃষ্টিতে হুড তোলা রিকশার ভিড়ে সারি সারি মানুষের মুখ—এই খণ্ড খণ্ড ছবিগুলো আমাদের প্রত্যেকের জীবনেরই কোনো না কোনো গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। ছুঁয়ে দেয় জীবনের কোনো না কোনো স্মৃতিকে। মানুষকে করে তোলে স্মৃতিকাতর। শিল্পী শাহানুর মামুনের ছবি সেখানেই মানুষের ভালোবাসা কুড়ায়।

শাহানুর মামুনের ক্যানভাসে উঠে এসেছে সাঙ্গু নদী, টং দোকান, চায়ের দোকান, বৃষ্টিময় দিন, মানুষের জটলা, গ্রামের হাট এবং রাজধানীর জীবনযাত্রা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার গলি, মানুষ এবং সেখানে জীবন মামুনের জলরঙে পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ফলে মামুনের ছবিতে যেমন উঠে আসে প্রকৃতি, একইভাবে মানুষের গল্পও বলে তার ক্যানভাস। তবে তার ছবির সবচে উল্লেখযোগ্য বিষয় আলোছায়ার খেলা। খুব সাধারণ ছবিও নতুন মাত্রা পায় আলোছায়ার খুব আকর্ষণীয় উপস্থাপনায়। আর এখানেই শাহানুর মামুন আর সবার থেকে আলাদা।

শিল্পী শাহানুর মামুন বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুব নিবিড়। প্রকৃতির কথা বললে সেখানে মানুষের কথাও চলে আসে। তেমনি প্রকৃতির কথা বললে মানুষকে বাদ দেওয়া যায় না। আর মানুষের ও প্রকৃতির গল্পে আলোছায়ার খেলা থাকে। সেই আলোছায়ার খেলাও যেন এক নতুন গল্প। উত্তরার গ্যালারি কায়ায় শুরু হয়েছে শিল্পী শাহানুর মামুনের জলরঙের চিত্র প্রদর্শনী ‘স্টোরিজ’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী চন্দ্র শেখর দে। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী।

শিল্পী চন্দ্র শেখর দে বলেন, শাহানুর মামুনের ছবি আঁকার সবচে বড়ো দিক হচ্ছে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চা থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন। সে গল্প বলেও খুব সহজ করে। জটিলতা কিংবা রহস্য সৃষ্টি করে না। এটা মানুষকে তার ছবির প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে। শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী বললেন, শাহানুর মামুন এ সময়ের প্রতিভাবান শিল্পী। তার ছবিতে রঙ ও বিষয়ের ঐকতান সৃষ্টি হয়। মানুষের জীবন, প্রকৃতি, আলোছায়া ভিন্ন দ্যোতনা নিয়ে উপস্থিত হয় তার ক্যানভাসে। তার চারকোলে করা কাজগুলোও খুব আকর্ষণীয়—উল্লেখ করেন গৌতম। প্রদর্শনীতে মোট ৫৫টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *