একটু ভুল থেকে মহা হুলস্থুল, নিহত ২

বৈচিত্র ডেস্ক: জঙ্গল পরিস্কার করতে দা-কাঁচি ছেনি নিয়ে বের হয়েছিল কয়েকজন যুবক, প্রতিপক্ষ ভাবল তারা হামলা করতে এসেছে। এরপর থেকে একের পর এক ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২জন।

ঘটনা এখানেই থেমে যায়নি। এ নিয়ে এখনো উত্তপ্ত মাদারীপুরের রাজৈর। চলছে হত্যার বিচারের দাবিতে মিছিল সমাবেশ। এলাকা থমথমে। ফের অঘটনের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনার শুরু গত বৃহস্পতিবার। রাজৈর উপজেলার হরিদাসদি মহেন্দ্রদি ইউনিয়নের উত্তর হোসেনপুরে ওয়ার্ড সদস্য দেলোয়ার মুন্সি ও জামাল খালাশি বিরোধই এ ঘটনা সৃষ্টির নেপথ্যে।

বৃহস্পতিবার সকালে দেলোয়ার মুন্সির পক্ষের কয়েকজন যুবক এলাকার জঙ্গল পরিস্কার করতে দা-কাঁচি ছেনি নিয়ে বের হয়। তাদের দেখে প্রতিপক্ষ জামাল খালাশির লোকজন হামলা করতে এসেছে ভেবে পরিছন্নতা কাজে বাধা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতন্ডা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় সংঘর্ষ হতে পারে আশঙ্কায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই তিনজনকে আটক করে।

ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে দেলোয়ার মুন্সীর লোকজন বাবুল মুন্সীর উপর অতর্কিত হামলা করে এবং কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলাকারিরা মসজিদের পাশ্র্ববর্তী প্রতিপক্ষের বাড়িঘরেও হামলা চালায়। সেখানেও জুলফিকার খালাশি (৫৫),  কহিনুর খালাশি (৪৫) ও  সজিব মুন্সীসহ ৬/৭জনকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়াও লাঠিসোটার আঘাতে আরো প্রায় ১৫ জন আহত হয় । এসময় নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দিগবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। নৃশংস এই ঘটনার পর হামলাকারীরা তাদের বিজয় হয়েছে মর্মে স্লোগান দিতে থাকে।

এ সময় হামলার নেপথ্যে ইন্ধনদাতা রাজৈরের এক প্রভাবশালী নেতাসহ বেশ ক’জনের নেতৃত্বে বিজয় মিছিল করে এলাকা ত্যাগ করে বলে স্থানীয়রা জানান।

হামলায় আহত বাবুল মুন্সী শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত জুলফিকার খালাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আহত কহিনুর খালাশির অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছে।

এদিকে মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হামলাকারী পক্ষের লোকজনকে নিজেদের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

খুনীদের ফাসির দাবিতে এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে হামলাকারীরা ঘরে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। সংঘর্ষের সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে দেলোয়ার মুন্সীর সঙ্গে একই এলাকার জামাল খালাশির বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের সমর্থকদের মধ্যে গত এক মাসের ব্যবধানে তিন থেকে চারটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে হরিদাসদি মহেন্দ্রদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘দেলোয়ার ও জামাল এই দুজনই আওয়ামী লীগ করেন। তারা দুজনই ১ নম্বর ওয়ার্ডের নেতৃত্ব চান। তাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের কলহ রয়েছে। তাদের এ কলহের কারণে সাধারণ দু’জন মানুষ মারা গেল।’

বর্তমানে এলাকা এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সহকারি পুলিশ সুপার আবির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার ওসি খোন্দকার সওকত জাহান জানান, ওই এলাকার শান্তি রক্ষায়  পুলিশ মোতায়েন আছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *