জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইগ্রেশনের নামে লাখ টাকা চাঁদা দাবি

বৈচিত্র ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাইগ্রেশনের নামে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর সিকদার ঝোটনের ছেলে সায়েম সিকদার ও তার অনুসারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র সামিউল তাসবাহ শিশির, কবি নজরুল কলেজের প্রথম বর্ষের ‍আজিজুল খান রাফি, শোভন, হিমেল এবং সৈকত। এদের মধ্যে শুধু আজিজুল খান রাফিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযোগপত্রে তাকে মাইগ্রেশনের নাম বলে ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করে এবং জোরপূর্বক উঠিয়ে নেয়ার মত ঘটনা ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ্য করেন ।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য থেকে জানা যায় , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার পরে ভুক্তভোগীর পজিশন ছিল ২০৩৬। প্রথমে সাব্জেক্ট না পেলেও পরবর্তীতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সুযোগ পায় সে। পরে আজিজুল খান রাফি তাকে মাইগ্রেশন করিয়ে আইন বিভাগে ভর্তি করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তখন ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানায়। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে ভর্তির রোল নাম্বার নেয় পজিশন দেখার জন্য। তবে পরবর্তীতে মাইগ্রেশানে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেটিক হয় জেনে তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সে। প্রত্যাখ্যান করে দেয়ার পর তারা ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছে বলে দাবি করে। তারা মাইগ্রেশনের নামে টাকা চাইলেও ভুক্তভোগীর মাইগ্রেশন হয়নি । সেই টাকা দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকি দিতে থাকে অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও জানান, অভিযুক্তরা ৮ ও ৯ তারিখ দুই বার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী প্রজন্ম লীগ নেতা সায়েম সিকদারের অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা চাপ প্রয়োগ করে। সায়েম সিকদার জগন্নাথ কলেজের (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর সিকদার ঝোটনের ছেলে।

এরই প্রেক্ষিতে সোমবার(১৩ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার জন্য শিশির এবং রাফি ক্যাম্পাসে আসে। এদিকে ভুক্তভোগী বিষয়টি সিনিয়রদের জানালে তারা অভিযুক্ত আজিজুল খান রাফিকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। এরপরে আজিজুল খান রাফিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে সায়েম শিকদারের অফিসে অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। তবে অফিস বন্ধ পেয়ে ফিরে আসে তারা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নিউটন হাওলাদার ও বিভাস কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে সায়েম শিকদারের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোনের অপরপাশ থেকে এক মহিলার কণ্ঠে সায়েম সিকদারের নাম্বার নয় বলে জানান ।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মামলা করেছেন, ওটা পুলিশ দেখবে। আমাদের কাছে আবেদন করেছে আমরা তদন্ত করে দেখবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা এবিষয়ের সাথে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা করা হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) নূর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ বাকিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

বৈ/নি/২৪/সম্পাদনা/তানজির হাসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *