পূর্ণিমার প্রিয় মান্না

বিনোদন ডেস্ক : আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি চিত্রনায়ক আসলাম তালুকদার মান্নার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাকে নিয়ে বিশেষ রচনা…
দেখতে দেখতে একযুগ পার হলো। মনে হয় এই তো সেদিনের কথা, ধূমকেতুর মতো আপাদমস্তক একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী বিদায় নিলেন পৃথিবী থেকে। কারও কাছে তিনি একজন প্রতিবাদী যুবক। কারও কাছে গরিবের বন্ধু। সদাহাস্যোজ্জ্বল মানুষটি নানা অবতারে সেলুলয়েডের পর্দায় ধরা দিতেন। এতক্ষণ যার কথা বলছি, তিনি হলেন আমার প্রিয় মানুষ মান্না ভাই। আমাদের নায়ক মান্না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের নির্ভরযোগ্য অভিনেতা ছিলেন তিনি। সে জন্যই হয়তো দীর্ঘ ১৯ বছর শীর্ষ নায়কের স্থানটি তার দখলেই ছিল। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যে সময়ে আমার অভিষেক হয়েছে, সে সময় মান্না ভাইয়ের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গস্পর্শী। এরপরও অনেকেই তার সঙ্গে আমাকে ছবি না করার জন্য বলেছিলেন। এটা যে ফিল্ম পলিটিক্সের অংশ, তা বুঝতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে ছবিতে অভিনয়ের সূত্রে আমি তাকে অনেক কাছে থেকে দেখেছি। এমন অসাধারণ মানুষ খুব কমই আছেন চলচ্চিত্র শিল্পে। একসময় আমাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। অভিনয়ের অনেক কিছুই তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। তিনি আমাদের দেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পাশাপাশি চলচ্চিত্রের সুখে-দুঃখে সবসময় সাহস করে এগিয়ে গেছেন তিনি। অ্যাকশন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রোমান্টিক নায়ক হিসেবেও তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তার সঙ্গে আমি প্রথম অভিনয় করি এফআই মানিক পরিচালিত ‘সুলতান’ ছবিতে। এরপর আমরা জুটি হয়ে ‘ধ্বংস’, ‘নায়ক’, ‘বাপ বেটার লড়াই’, ‘বাবু মাস্তান’, ‘জনতার লড়াই’, ‘বাবা’, ‘ভিলেন’, ‘ঢাকার গুণ্ডা’, ‘দাফন’সহ ২৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। তার প্রযোজিত চলচ্চিত্র ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’ ছবিতেও অভিনয় করেছি। ওই ছবিতে আমার চরিত্রের গুরুত্ব একটু কম ছিল। এ নিয়ে অনেক অভিমান জমেছিল তার প্রতি। তিনি কথা দিয়েছিলেন, আমাকে একক নায়িকা করে ছবি করবেন তিনি। আমার প্রিয় মান্না ভাই কথা রেখেছিলেন। আমাকে একক নায়িকা করে ‘মনের সাথে যুদ্ধ’ ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন। ছবিটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আমাদের জুটির শেষ ছবি ছিল ‘পিতা-মাতার আমানত’। যে জন্য এ ছবিটি যখনই দেখি, মনে পড়ে যায় শুটিংকালীন দিনগুলোর কথা। মাঝেমধ্যে ভাবি, এ রকম একজন কিংবদন্তি অভিনেতার সঙ্গে যদি আরও ছবি করতে পারতাম, তাহলে আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক সমৃদ্ধ হতো। তার সঙ্গে রয়েছে হাজারো স্মৃতি; যা মাঝেমধ্যে স্মৃতির দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে। মান্না ভাইয়ের প্রসঙ্গ এলেই একটা ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। এফডিসির একটি ফ্লোরে আমি শুটিং করছি, অন্য ফ্লোরে মান্না ভাই। বিকেলে শিল্পীদের নাশতার জন্য কিছুক্ষণ সময় দেওয়া হয়। একদিন সে সময় আমি বাইরে একটি রোস্তোরাঁয় যাওয়ার জন্য বের হচ্ছি, তখন মান্না ভাই আমাকে ফোন দিয়ে খাবার আনতে বলেছিলেন।

আমি খাবার এনে সহকারীকে দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। খেতে খুব পছন্দ করতেন মান্না ভাই। শুটিংয়ে এলে তার দই বড়া চাই-ই চাই। টাঙ্গাইল থেকেও আমাকে দই বড়া এনে দিয়েছিলেন তিনি। হাসিখুশি প্রাণবন্ত মানুষটা আমাদের মাঝে নেই, ভাবতেই অবাক লাগে। তার সঙ্গে আমার শেষ দেখাটাও হয়নি। মান্না ভাই, যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *