ফুলপুরে বাণিজ্যিকভাবে সৌদি খেজুর চাষ

বৈচিত্র ডেস্ক : ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাণিজ্যিকভাবে সৌদি আরবের খেজুর চাষ শুরু হয়েছে। ২০১৭ সনে ৮টি চারা দিয়ে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুরাতন ডাকবাংলা রোডে খরিয়া নদীর পাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে প্রথম সৌদি খেজুর চাষ শুরু করেন সাহাপুর গ্রামের কৃষক ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম (৩৭)। সম্ভাবনাময় এ বাগানের উন্নতি দেখে নিজ গ্রামে আরও ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি আরেকটি খেজুর বাগান করেন। এখন তার ২টি বাগানে আজুয়া, শুক্কারী ও বকরীসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩ হাজার খেজুর চারা রয়েছে। প্রথম যে চারাগুলো রোপণ করা হয়েছিল ওইগুলোতে ফলন এসেছে। আশা করা হচ্ছে, কুরবানীর ঈদের আগেই বাণিজ্যিকভাবে বাজারে পাওয়া যাবে কাশেমের বাগানের খেজুর।

কাশেম ভালুকার খেজুর মোতালেবের নিকট থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করেন এ বাগান। পরে খেজুর চাষ বিষয়ে ১৮ বছরের অভিজ্ঞ জ্ঞানেন্দ্র বাবু নামে এক ব্যক্তির স্মরণাপন্ন হন তিনি। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় বাগানের পরিধি ও আয়তন আরও বৃদ্ধি করেন তিনি।

এক ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক কাশেম তার ছেলের নামে বাগানের নাম দিয়েছেন ‘আব্দুল্লাহ আন্-নূর সৌদী খেজুর বাগান’। তার বাগানের খেজুর গাছগুলো কলা গাছের ন্যায় একেকটা ২০ থেকে ২৫টা করে চারা দেয়। পুরাতন ডাকবাংলা রোডে ঢুকলে চোখে পড়ে মুগ্ধ হবার মতো সেই অপূর্ব সুন্দর বাগান। বৃহস্পতিবার বাগানটিতে গিয়ে দেয়া যায়, ছোট ছোট খেজুর গাছে মোচা বের হচ্ছে। একই গাছের গোড়ায় চতুর্দিকে নতুন চারা জন্ম নিয়েছে। এগুলো কলম কেটে আলাদা করা যায়। প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা দেখতে আসছে কাশেমের খেজুর বাগান।

শেরপুর রোড মোড়ে কাশেমের একটি ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। দোকানে সময় দেওয়ার ফাঁকে কর্মচারীদের সাথে নিজেও খেজুর বাগানের পরিচর্যা করেন তিনি। খরিয়া নদীর পাড়ে উন্মুক্ত ও অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে গড়ে ওঠেছে খেজুর বাগানটি। পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কাশেম নিজেই বাগানে পানি দিচ্ছেন ও আগাছা পরিষ্কার করছেন।

কাশেম জানান, বর্তমানে তার বাগানের চারা বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যায়ে পৌঁছাতে আমার প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ আমদানি, শ্রমিক খাটানো, সার গোবর ও খাবার সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে আমার এ পরিমাণ খরচ হয়েছে। তবে বর্তমানে বাগান দেখে খুশিই লাগে। আশা করছি, অচিরেই লাভের মুখ দেখতে পারব।

তিনি জানান, তার বাগানে ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা দামের ৩ হাজার চারা রয়েছে। সঠিক দামে বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাগানে ২ জন ব্যক্তির কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি এর পরিধি বড় করব এবং এতে আরও অনেকের কর্মসংস্থান হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সৌদি খেজুর উৎপাদনে বাংলাদেশের মাটি খুবই উপযুক্ত। ইতোমধ্যে সীড স্টোর, নরসিংদী, নুহাশ পল্লী সংলগ্ন আলিমপুর, ভালুকা, গাজীপুরের পাশাপাশি ফুলপুরেও এর চাষ শুরু হয়েছে। এটি লাভজনক উচ্চ মূল্যের একটি ফসল। চাষে সফলতা পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক উন্নতিসহ পুষ্টি ও খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। ফুলপুরে গড়ে ওঠা সৌদি খেজুর বাগানে এখনও যাওয়া হয়নি তবে শিগগিরই যাব এবং লাগলে তাদের প্রয়োজনীয় কৃষিসেবা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *