চুরির মামলায় কারাগারে যমজ শিশুসহ মা

বৈচিত্র ডেস্ক : চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে চুরির মামলায় সখিনা বেগম নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এসময় সঙ্গে তার ৭ মাসের যমজ শিশু ছিল।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার সকালে আত্মসমর্থন করে জামিন চাইলে বিচারক এএফএম মারুফ চৌধুরী তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৬ জানুয়ারি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট একেএম এমদাদুল হক সখিনাকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার সময় সখিনা গর্ভবতী থাকায় আাদলতে হাজির হতে পারেননি। যমজ সন্তান জন্মের পর সখিনা এত দিন ফেরারি আসামি ছিলেন। যমজ দুই সন্তান নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন।

আদালত দুই শিশুর দুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি সখিনার স্বামী মো. রানাও একই মামলায় পালাতক রয়েছে।

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, সখিনা বেগম যমজ শিশুদের নিয়ে তার আইনজীবী মো. মেহেদী হাসানের মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান।

বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রথমে বিচারক সখিনাকে যমজ শিশু ছাড়া কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এমন সময় সরকারি কৌঁসুলি আনোয়ার কবীর বাবুল মানবিক দিক বিবেচনা করে শিশুদের মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর অনুমতি চান। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

বিকাল ৫টায় আদালত থেকে সখিনা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। সঙ্গে ছিল অবুঝ দুই কন্যা শিশু।

জানা যায়, সখিনা তার স্বামী রানাসহ সাভার থানাধীন ২৬ এ কোর্টবাড়ী এলাকায় মো. আবদুল মজিদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল রাতে সখিনা বাড়ির মালিক মজিদসহ পরিবারের সবাইকে ভাতের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ান।

একপর্যায়ে সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিন্তু মালিকের ভাগিনা জুয়েল ভাত না খেয়েই ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে আলমারি খোলার শব্দে জুয়েলকে দেখতে পান সখিনা, রানাসহ তাদের সহযোগীরা আলমারি খুলে টাকাপয়সা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন।

ওই সময় জুয়েলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে সখিনা ও তার স্বামী রানাকে আটক করে পুলিশে দেয়।

একই সময়ে এলাকাবাসী বাড়ির মালিক ও পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় মজিদ বাদী হয়ে সাভার থাকায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর এ মামলার চার্জশিট দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *