ইতালিতে একদিনেই ৪৭৫ জনের মৃত্যুর রেকর্ড

বৈচিত্র ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় ইউরোপের দেশ ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গতকাল বুধবার একদিনে আরও ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৭৮ জন। এখন পর্যন্ত যেকোনো দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ হাজার ২০৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭১৩ জন। গত একদিনে ১ হাজার ৮৪ জনসহ সুস্থ হয়েছেন মোট ৪ হাজার ২৫ জন।

তবে মহামারি এই ভাইরাস প্রতিরোধে দেশটির সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি গত সোমবার থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আর জরুরি আইন অমান্য করে বাইরে ঘোরাঘুরির কারণে গত সাত দিনে ৪৩ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে, গত রোববার সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা আইন অমান্য করায় ইতালির নাপোলি শহর থেকে ৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

ইতালির সরকার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর বাজেট ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, করোনাভাইরাস সংকটের জন্য ইতালিতে কেউ চাকরি হারাবে না।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত যারা কর্মহীন থাকবে, তারা বেতনের ৮০ ভাগ অর্থ পাবে। সকল প্রকারের বিল, বাসা ভাড়া ও লোনের কিস্তি স্থগিত করে রাখা হবে।

তবে হোম কোয়ারেন্টিন অমান্যকারীদের পুলিশ ব্যাপক শাস্তি ও জরিমানা আরোপ করছে। স্টেশনে ঘুমানো ছিন্নমূল মানুষদের পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো পরিবারের সকল সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বাসার দরজার নিচ দিয়ে তারা পেপার ওয়ার্ক শেষ করছেন। এমনকি শেষকৃত্য ছাড়াই সমাহিত হওয়া প্রিয়জনদের ছবি দরজার নিচ দিয়েই পাঠাচ্ছেন সিমিটারিতে স্থাপনের জন্য।

জানা গেছে, চীনের সাংহাই থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দল ৯ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বুধবার রওনা হয়েছেন ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের উদ্দেশে।

কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা এবং মনিটর ছাড়াও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে আসছেন তারা। মিলানে অবতরণ করার পর চীনা চিকিৎসক দল দ্রুত যোগ দেবেন স্থানীয় ইতালিয়ান চিকিৎসকদের সঙ্গে।

তবে মহামারি এই ভাইরাস থেকে ইতালিকে বাঁচাতে দেশটির সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *