করোনা ইস্যুতে বিএনপির জেলা নেতাদের মাঠে নামার নির্দেশ

বৈচিত্র ডেস্ক : করোনাভাইরাস ইস্যুতে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ৮ লাখ সচেতনতামূলক লিফলেট ছাপানো হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা তা বিতরণ শুরু করেছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস একটা মহামারী। এখানে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ঢাকাসহ সারা দেশে এ নিয়ে জনসচেতনতার জন্য লিফলেট বিতরণ শুরু করেছি। আমাদের সব শাখাকে বলে দিয়েছি তারা সজাগ থাকবে, সচেতনতা সৃষ্টি করবে। এর একটিই উদ্দেশ্য- এ ধরনের মহামারী থেকে রক্ষায় জাতিকে সচেতন করা এবং আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসমাগম এড়িয়ে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলীয় সভা-সমাবেশ স্থগিত করেছে দলটি। একই সঙ্গে জেলা-উপজেলায় কোনো শোডাউন না করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

 শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ ভাইরাস রোধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতারা। সিদ্ধান্ত হয় রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করা হবে। স্থায়ী কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে জানান, এ ভাইরাস নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের দিকে না তাকিয়ে জনসচেতনতায় যা যা করার, বিএনপি করবে।

যেভাবে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ দেখা দিলে তা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিএনপি। করোনা ইস্যুতে দেশের প্রতিটি জেলার নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ করার জন্য। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে লিফলেট ছাপানো হয়েছে, আরও ছাপানো হবে। জেলার নেতাদের কেন্দ্র থেকে লিফলেট সংগ্রহ করতে অথবা নিজ উদ্যোগে তা ছাপিয়ে বিতরণের জন্য বলা হয়েছে।

পাশাপাশি স্যানিটাইজার, মাস্কসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতারা করোনা প্রতিরোধে করণীয় এবং জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শুরুও করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করছেন সিনিয়র নেতারা। বুধবারও লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন’ শিরোনামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ, কারা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধে করণীয়সহ নানা তথ্য তুলে ধরে এক পৃষ্ঠার লিফলেট তৈরি করেছে বিএনপি। এই লিফলেটে ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ কথাও লেখা রয়েছে। লিফলেটে যা আছে- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ : আক্রান্তের ২-১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে।

কারা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ : বয়স্ক ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাঁপানি ও যক্ষ্মায় আক্রান্ত) ও আক্রান্ত এলাকায় ভ্রমণকারী। প্রতিরোধে করণীয় : প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, বিশেষ করে যারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করেন তাদের স্বেচ্ছায় অন্যদের সংস্পর্শ থেকে নিজেদের দূরে রাখা। কাশির সময় টিস্যু/রুমাল ব্যবহার, বিশেষ করে আক্রান্তদের মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। কাশির সময় টিস্যু/ রুমাল না থাকলে স্লিভ/ওড়না ব্যবহার করতে হবে।

জীবাণুনাশক হ্যান্ডওয়াশ অথবা সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ডের অধিক পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে মুখমণ্ডল স্পর্শ না করা। অধিক লোকালয় জায়গাগুলো (যেমন- গণফোরাম, বাস ও রেলস্টেশন) পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। যেসব ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দিয়েছে (জ্বর, শরীর ব্যথা, হাঁচি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট) তাদের কাছ থেকে ন্যূনতম ৬ ফুট দূরে থাকতে হবে।

বাইরে থেকে এসে ব্যবহৃত কাপড় শুকানোর জন্য কয়েক ঘণ্টা বাইরেই রাখতে হবে। যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা যাবে তাদের অতিদ্রুত রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর), মহাখালী, ঢাকায় যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে লিফলেটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *