ভালো থাকার শপথ নিই

day-1423850491_11202ফাতেমা মাহফুজ :  ১৯৯৩ সাল থেকে আমাদের দেশে ‘ভালোবাসা দিবস’ পালিত হয়ে আসছে, যেটির প্রচলন করেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক শফিক রেহমান। ইতিহাসে এই দিনকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। তবে সংক্ষেপে বলতে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আমলে ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার করার জন্য, কোথাও বা লেখা আছে ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ অবস্থায় যখন এক অন্ধ মেয়ের প্রেমে পড়ে যান এবং বিভিন্ন তরুণ-তরুণীর তার প্রতি ভালোবাসার কথা সম্রাটের কানে যায় তখন ২৬৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
তবে, এই দিবসটি দেশব্যাপী পালন করার ব্যক্তিগতভাবে কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না। এভাবে ইতিহাসে অনেককেই অনেক অযৌক্তিক কারণে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল- তো সেসব কারণকে পুঁজি করে কি এক-একটা দিবস বানিয়ে নেয়া যায়? এ দিকে এই ভালোবাসা দিবসটি কেবলই যেন মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা আর অবৈধ সম্পর্ককে উসকানি দেয়া।
আমরা জানি, অনেকে উদার মনে এই দিবসকে সবার জন্য ভালোবাসা তথা মা-বাবা, ভাইবোন, সন্তানসন্ততির প্রতি ভালোবাসা বিনিময় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে- এমনকি যারা এমন উদার (!) চিন্তায় থাকেন তারাও স্বীকার করবেন যে, বিশ্বব্যাপী আসলেই কি এমনভাবে পালিত হচ্ছে নাকি- অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের মধ্যকার প্রেম বিনিময় হিসেবে পালিত হচ্ছে? আর এই প্রেম বিনিময় ও সেই রূপ চিন্তা ভাবনাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতেই যেন অনলাইন অফলাইনে গল্প লেখার প্রতিযোগিতা, নাটক, সেই সাথে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের অফার, এমনকি রুম রেটে ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে। অতএব যে দিবসের পালন- আমাদের সমাজের তরুণ-তরুণীদের নিজের প্রেমকে স্মরণীয় রাখার জন্য অনৈতিক কাজের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেই দিবসকে নিজ থেকেই বয়কট করা উচিত।
এ দিকে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসায়িক লাভ দেখবেই। সেটি লাল পোশাক ডিজাইন করে হোক, কিংবা একাধিক চ্যানেলে একাধিক চটকদার নাটক দেখিয়ে হোক- তবে আমাদের জীবনটা নাটক নয়। তাই বাস্তবতার আলোকে বলব- বিয়ের আগে প্রেম ভালো নয়। কারণ সে সময় আমাদের মাথায় শয়তান কাজ করে, আমরা বুদ্ধি-বিবেক দিয়ে বিচার করা ছেড়ে দিই, যে মানদণ্ডে একজন মানুষকে পছন্দ করতে হয় সেটিও করি না। বড়দের অবাধ্য হই, কখনো বা ভালোলাগার মানুষকে না পেলে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেই। যদিও আমাদের জীবন অনেক মূল্যবান, যেমনটি মূল্যবান আমরা যাকে পছন্দ করছি তার জীবনটি। চাইলে তার জীবনও ধ্বংস করে দিতে পারি না। তাই অনিষ্টতা থেকে নিজে ও অন্যকে বাঁচাতে হবে। তবে, বিয়ের আগে কাউকে ভালো লাগলে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে অনৈতিক কাজ না করে অভিভাবকদের জানানো উচিত, তাদের বুঝিয়ে বলা উচিত, সেই সাথে ভাগ্যের ওপর বিশ্বাস রাখা উচিত। সে আপনার ভাগ্যে থাকলে আপনার সাথে বিয়ে হবে আর না থাকলে অভিভাবকেরাও রাজি হবেন না। জানি, ভালো লাগার মানুষকে ভুলতে কষ্ট হবে, তবে আপনার ভাগ্যে যে আছে তার অধিকারের কথা চিন্তা করে দেখলে হয়ত আপনি পারবেন। আমাদের জীবনের মালিক আল্লাহ। তাই তার নির্দেশেই সুপথে বিচক্ষণতার সাথে জীবন অতিবাহিত করতে হবে। তিনি আপনার মনের পরীক্ষা শেষে ভালো পথেও নিয়ে যেতে পারেন- যদি আপনি চেষ্টা করেন ভালো থাকার। অতএব, ভালো থাকার শপথ নিয়েই ভালোবাসা দিবসকে নিজ থেকে বর্জন করতে হবে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *