নায়ক হতে হলে তাকে এক্সট্রা কিছু অর্জন করতে হয় : রাজ্জাক

SAM_2387 copyআঞ্জুমান : নায়ক হিসেবে আপনার প্রথম ছবি ‘বেহুলা’। বেহুলা’র লখিন্দর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আপনার কি অনুভূতি হয়েছিলো?
রাজ্জাক : জীবনের স্বপ্নই ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করবো। এর আগে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি বেসিক্যালিতো নাটকের শিল্পী। ছোটবেলা থেকে নাটক করি। যখন বেহুলা ছবির শুটিংয়ে যাই এটি ছিল আমার জন্য একটি বিরাট প্রাপ্তি। ছবির পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান। বেহুলা আমার প্রথম ছবি। এ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে যে অনুভূতি আমার হয়েছিলো তা একটি অসাধারণ অনুভূতি। যা এরপর আমি আর পাইনি।
আঞ্জুমান: আমরা জানি, ঢাকাই চলচ্চিত্রে আপনার মহাঅভিষেক ঘটেছিল প্রয়াত জহির রায়হানের হাত ধরে। জহির রায়হানের সাথে আপনার পরিচয় এবং সম্পর্ক সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাই।
রাজ্জাক : জহির রায়হান এতোবড় ব্যক্তিত্ব যে তার সম্পর্কে কিছু বলা আমার জন্য সত্যি কষ্টকর। তিনি আমার গুরু ছিলেন। তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল বড় ভাই ছোট ভাইয়ের। প্রথম পরিচয়ের কথা মনে আছে, আমি এফডিসিতে ঘোরাফেরা করছি, দেখলাম তিনি কাজ করছেন। বুকে সাহস নিয়ে কাছে গেলাম এবং তার ছবিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। তিনি আমাকে দেখলেন, কথা শুনলেন এবং সবশেষে তার বাসায় দেখা করার জন্য বললেন। মনে আছে দিনটি ছিল রোববার। আমি তার বাসায় গেলাম। তখন তার প্রোগ্রাম ছিল ‘হাজার বছর পরে’ করার। তিনি বললেন, এই ছবিটাতে আমি তোমাকে কাস্ট করব। কিন্তু ছবিটা পরবর্তীতে আর হয়নি। রুটিরুজির কারণে এরপর ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। টেলিভিশনে কাজ করছি এমন সময় শুনলাম তিনি আমাকে খুঁজছেন ‘বেহুলা’ করার জন্য। আমি তার সাথে যোগাযোগ করলাম। এভাবেই বেহুলার ইতিহাস শুরু। এর জহির রায়হানের অনুপ্রেরণা তার শিক্ষা এবং তার গাইডেন্সে আমি এগিয়ে যেতে থাকলাম। আমার আজকের এই অবস্থানের পিছনে তার ভূমিকা অপরিসীম। জহির রায়হান জহির রায়হানই। তার তুলনা হয় না। SAM_2338 copy
আঞ্জুমান: আকাশ সংস্কৃতির সাথে যুদ্ধ করে আমাদের চলচ্চিত্র যেভাবে টিকে আছেÑ সে অবস্থা থেকে উত্তরণের কোন উপায় কি আপনার জানা আছে?
রাজ্জাক : আকাশ সংস্কৃতি তো সারাবিশ্বেই আছে। তাকে প্রটেকশন দেয়ার ক্ষমতা তো আমাদের নেই। তবে সরকার যদি মনে করে তবে তারা দেশীয় সংস্কৃতি দেশীয় চলচ্চিত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন একটি কথা বলতে চাই ভারতে আমাদের দেশের কোন চ্যানেল চলে না। অন্যান্য দেশে ভারতের কিছু চ্যানেল চললেও আমাদের দেশে তাদের উপস্থিতি ব্যাপকতর। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা থাকা উচিত। আকাশ সংস্কৃতির বিস্তার এখন সারা বিশ্বব্যাপী। উন্নত বিশ্বে এ সংস্কৃতির বিপরীতে চলচ্চিত্রে নতুন সব টেকনোলজির উদ্ভাবন ঘটেছে। সেদিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদেরকেও টেকনোলজিতে উন্নত হতে হবে। সবশেষ কথা হলো এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যুদ্ধ করে টিকতে হবে।
আঞ্জুমান: জনগণ আপনাকে ‘নায়করাজ’ বলে। নায়কদের রাজা হিসেবে আপনার কি অনুভূতি?
রাজ্জাক : জনগণ বিশেষ করে সাংবাদিকরাই আমাকে ভালোবেসে এই উপাধিটা দিয়েছিলÑ নায়করাজ। এতে আমি গর্বিত। চার দশক ধরে অভিনয় জগতে আছি। এখনও কাজ করছি। এই দীর্ঘদিন জনগণের ভালোবাসা পেয়ে এসেছিÑ এখনও পাচ্ছি। আমার জীবনের এটাই বড় প্রাপ্তি। নায়করাজ উপাধির জন্য আমি গর্ববোধ করি কিন্তু কখনও অহংকারী হইনি। আমি মনে করি এটা জনগণের দোয়া জনগণের আশীর্বাদ। আমি এটি মাথায় তুলে নিয়েছি।
আঞ্জুমান: একজন নায়ক এবং একজন অভিনেতার মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি?
রাজ্জাক : তাতো আছে। অভিনেতা সবাই হতে পারে কিন্তু নায়ক হতে গেলে তাকে এক্সট্রা কিছু অর্জন করতে হয়। নায়ক মানেই একটি স্টাইল একটা বিশেষ কিছু। নায়কদের আলাদা কিছু থাকতে হয়। যার জন্য সে অনেকের মধ্যে একজন হয়ে উঠে। ঠিক মালার লকেটের মতো। অভিনয় না জানলে যেমন অভিনেতা হওয়া যায় না তেমনি নায়কও। অভিনেতাদের কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না কিন্তু নায়কদের নির্দিষ্ট ছকের মধ্য দিয়ে এগুতে হয়।
আঞ্জুমান: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে সংঘাত দলাদলি চলছে তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে একজন জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে যদি আপনাকে কোন ভূমিকা রাখতে বলা হয় তাহলে আপনি কি করবেন?

153
রাজ্জাক : আমি দেশকে ভালোবাসি। দেশের প্রয়োজনে যদি কেউ আমাকে ডাকে তাহলে অবশ্যই এগিয়ে যাবো। তবে আমি মনে করি যারা রাজনীতি করে দেশ চালায় তারা দেশ ও জাতির প্রয়োজনে যতটা ভূমিকা রাখতে পারেন আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ খুব ভালো মানুষ। তারা সাদাভাত মোটা কাপড় পেলেই খুশি। এই দেশ যদি আমরা ভালোভাবে শাসন করতে না পারি তবে সেটা আমাদের দৈন্য ছাড়া আর কিছু নয়। আমি রাজনীতি করি না। করবও না। রাজনীতির বাইরে থেকে যদি দেশ ও জাতির জন্য কেউ কাজ করার জন্য ডাকে তবে অবশ্যই আমি তার ডাকে সাড়া দেব।
আঞ্জুমান: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিনেতারা যে ধরনের সামাজিক মর্যাদায় অভিসিক্ত হন আমাদের দেশে আমরা ঠিক তেমনটা লক্ষ্য করি না। বিষয়টি কি আপনাকে আহত করে না?
রাজ্জাক : অন্য কারো কথা জানি না নায়ক বলো অভিনেতা বলো আমি এদেশের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা যে সম্মান পেয়েছি বিশ্বের অন্য যেকোন দেশের নায়কের তুলনায় সেটা কম নয়। ৪০ বছর ধরে এ অঙ্গনে আছি এখনও এ দেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসে, সামাজিক স্বীকৃতিও আছে। চার দশক ধরে সম্মান ও স্বীকৃতি নিয়ে এগিয়ে চলা অন্য কোন দেশের নায়ক বা অভিনেতার ভাগ্যে খুব কমই জুটেছে। আর একটি কথা সামাজিক মর্যাদা বা স্বীকৃতি পেতে গেলে নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমার কর্মের স্বীকৃতি আমি পাব। অন্যকে দোষ দিয়ে কি লাভ। আমি যদি ভালো বাবা হই তবেই না আমার ছেলেমেয়েরা আমাকে শ্রদ্ধা করবে।
আঞ্জুমান: একজন নায়ক বা একজন অভিনেতার কাছে প্রিয় কোনটি অর্থ, পুরস্কার না জনগণের ভালোবাসা?
রাজ্জাক : জনগণের ভালোবাসাই হচ্ছে একজন অভিনেতার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

154
আঞ্জুমান: নায়ক না হলে কি হতেন?
রাজ্জাক : নায়ক না হলে খেলোয়াড় হতাম। আমি তখন স্কুলে পড়ি। ফুটবল খেলতাম। ভালো গোলকিপার ছিলাম। আমাদের স্কুলে সরস্বতী পূজার সময় ফাংশন হতো। স্কুলে দুটি সেশন ছিল। সকালে ছেলেদের বিকেলে মেয়েদের। মেয়েরা নাটক করতো। গীতি নাট্য করতো। আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন। তিনি বললেন, মেয়েরা নাটক করে এবার ছেলেরাও নাটক করবে। উনি আমাকে বললেন, তোমাকে অভিনয় করতে হবে। আমি বললাম, স্যার আমি স্পোর্টস করি নাটক করতে পারব না। এর আগে পাড়ার অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছি। কিন্তু নাটক করিনি। তিনি বললেন, ভয় নেই তুমি পারবে। সেই নাটকে রিয়ার্সেল করলাম অভিনয় করলাম ডাইরেক্ট হিরো। নাটকটির নাম ছিল বিদ্রোহ। মেয়ে বর্জিত নাটক। যথেস্ট এপ্রিসিয়েশন পেলাম। সেই শুরু। তবে নিয়মিত ছিলাম না। ম্যাট্রিক পাসের পরে খেলা কমিয়ে নাটকে সময় দেয়া শুরু করি।

আঞ্জুমান: আপনার কলকাতা জীবন সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
রাজ্জাক : কলকাতাতেই আমার জন্ম। সেখানেই পড়াশুনা শেষ করেছি। ৬৪ সালে কলকাতায় একটি দাঙ্গা হয়। আমার মন খারাপ হয়ে যায় এবং আমি বোম্বে চলে যেতে চাই। আমার গুরু পিযুষ ঘোষ তিনি ছিলেন পরিচালক। তিনি আমাকে জোর করে ঢাকায় পাঠান। ওখানে ছোট একটি ইন্ডাস্ট্রি আছে দেখুন কিছু করা যায় কিনা। আমিও ভাবলাম এবং চলে এলাম। কলকাতায় আমি এমন ফ্যামিলিতে জন্মে ছিলাম যেখানে কোন অভাব ছিল না। জীবনটা অন্যরকম ছিল। খেলাধূলা করতাম ফুটবল প্লেয়ার ছিলাম। নাটক করে বেড়াতাম। পড়াশুনা করতাম। ম্যাট্রিক পাস করে কলেজে ভর্তি হলাম। বিয়ে করলাম। এরপরতো এ দেশে এলাম। এখন ঢাকাই আমার প্রিয় শহর। এই দেশ বাংলাদেশ আমার প্রিয় দেশ। এদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও ভালো লাগে না। বাইরে বেড়াতে গেলে সপ্তাহ না যেতেই পাগল হয়ে উঠি কখন দেশে ফিরবো। 155
আঞ্জুমান: আপনি আপনার সন্তানদেরও অভিনয়ে এনেছেন। বলতে গেলে আপনার পরিবারটি একটি শিল্পী পরিবার। আপনি কি এতে গর্বিত?
রাজ্জাক : ভীষন ভাবে গর্বিত। আমার ছেলেদের মধ্যে দু’জনই চলচ্চিত্রে এসেছে। নায়ক হয়েছে। তারা ইচ্ছা করলে অন্য পেশায় যেতে পারত। কিন্তু যায়নি। এটা আমার অহংকার যে আমার ছেলেরাও নায়ক হয়েছে এবং আমারই আদর্শে এগিয়ে যাচ্ছে। গড্ডালিকা প্রবাহে নিজেদের ভাসিয়ে দেয়নি। কোন উল্টা পাল্টা ছবিতে তারা কাজ করেনি। এটিই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে একত্রে আছি, এ জন্যে আমি তৃপ্ত।
আঞ্জুমান: দেশে চলচ্চিত্রের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আকাশ সংস্কৃতির পাশাপাশি এর পিছনে আর কোন কোন কারণ কাজ করেছে বলে আপনি মনে করেন?
রাজ্জাক : আকাশ সংস্কৃতিকে আমি অতটা দোষ দেব না। দোষ আমরা যারা ছবি বানাচ্ছি তাদের। আমাদের দৈন্য হলো আমরা নকল খুব বেশি করি। যে যা নয় তার চেয়ে তাকে বেশি সম্মান দেয়া শুরু করি। যে সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত তাকে সম্মান করি না। এক সময় আমরা চলচ্চিত্র জগৎটা ছিলাম একটা পরিবারের মতো। এখন তা নেই। ভালো রাইটার নেই। ভালো ডাইরেক্টর নেই। আর্টিস্ট বানাবার কোন টেন্ডেন্সি নেই। আমাদের সময় ডাইরেক্টররা আর্টিস্ট তৈরি করতো। আকাশ সংস্কৃতিতো আছেই কিন্তু আমরা পিছিয়ে আছি। অন্য দেশে কি ছবি হচ্ছে না। তাদের ছবি কি বাজার পাচ্ছে না। আমাদের বাজেট কম। তার উপর যেমন তেমন নির্মাণ ছবি তো ফ্লপ করবেই।
আঞ্জুমান: আমাদের চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ যতটা উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল ততটা হয়নি এর পিছনে কি কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন?
রাজ্জাক : এর প্রধান কারণ হচ্ছে যারা এ ধরনের ছবি বানাতে পারতেন তারা পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। যেমন জহির রায়হান, আলমগীর কবির প্রমুখ। আর এ ধরনের ছবি বানাতে যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন তা আমরা পাই না। মুক্তিযুদ্ধের উপর ছবি বানাতে গেলে যে সমস্ত সহযোগিতা দরকার তা একমাত্র সরকার ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না। সরকার যদি আগ্রহী হন তবে এ শূন্যতা অবশ্যই পূরণ হবে।
আঞ্জুমান: রাজ্জাক-কবরী জুটি এখনও মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। এই জুটির উত্থান এবং প্রতিষ্ঠার কথা যদি জানতে চাই
রাজ্জাক : যখন কাজ শুরু করি তখন জুটির কথা মাথায় নিয়ে শুরু করিনি। ভারতে উত্তম কুমার এবং সূচিত্রা সেনের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য। তারা যেমন কাজ করতে করতে একটা মডেলে পরিণত হয়েছেন এবং সবাই তাদেরকে জুটি হিসেবে গ্রহণ করেছে এদেশে আমার এবং কবরীর বেলায়ও তেমনটি ঘটেছে। ময়নামতি’র পর থেকে আমাদের যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে তা আমাদের চলচ্চিত্রে সত্যিই একটি বিরাট ঘটনা। এ দেশের জনগণ আমাদের এমনভাবে গ্রহণ করলো যে তারা বলতে শুরু করলো রাজ্জাক-কবরীই আমাদের উত্তম-সূচিত্রা। বলতে পারেন এটা একটি অভূতপূর্ব সাড়া। আমার সাথে অনেকে অভিনয় করেছেন। কিন্তু কবরীর মতো আর কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।
আঞ্জুমান: আপনার স্ত্রী লক্ষ্মী আপনি যাকে আপনার প্রেরণাদাত্রী বলে উল্লেখ করে থাকেন তার সম্পর্কে কিছু বলুন
রাজ্জাক : একজন মানুষের জীবনে চূড়ান্ত সফলতার জন্য অনুপ্রেরণা দাত্রী হিসেবে একজন নারীর প্রয়োজন থাকে। লক্ষ্মী আমার জীবনে সেই রমণী। সে যদি আমার সাথে কো-অপারেশন না করতো আমাকে সাহায্য না করতো তাহলে আজকে হয়তো নায়করাজ রাজ্জাকের সৃষ্টি হতো না। তার ত্যাগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এই সংসার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া সব তিনি সামলিয়েছেন। নায়ক স্বামীকে নিয়ে কত বিড়ম্বনা সব হাসি মুখে সহ্য করেছেন। আমি তার কাছে ঋণী। SAM_2387 copy
আঞ্জুমান: সেকালের ঈদ আর এ কালের ঈদের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে পান কি?
রাজ্জাক : এখনকার ঈদ হচ্ছে কমার্শিয়াল কম্পিটিশন। লোক দেখানোর ঈদ। আগের দিনে এমনটি ছিল না। তখন ঈদ ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি ধর্মীয় মিলন ধর্মীয় উৎসব। এখন আর সেটি নেই।
আঞ্জুমান: আপনি তো অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি পরিচালনাও করেছেন পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের অনুভূতি কি ছিল?
রাজ্জাক : নায়ক ছিলাম, যখন পরিচালক হলাম তখন এটা একটা অন্য দিক। এটা একটি বিরাট নেশা। একজন পরিচালক কিন্তু একটি ছবির ক্যাপটেন। তাকে সবদিক সামলাতে হয়্ পরিচালনায় এসে প্রচ-ভাবে এর নেশায় বিভোর হলাম। পরপর কয়েকটি ছবি পরিচালনা করেছি। এরপর গ্যাপ ছিল, অভিনয় করেছি। এখন আবার পরিচালনা শুরু করেছি। নতুন নতুন আর্টিস্ট তৈরি আমার প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি ইমদাদুল হক মিলনের আয়না কাহিনী শেষ করেছি। ঈদের পরে রিলিজ হবে। আরো দুটো ছবির কাজ ঈদের পরে শুরু করবো। পরিচালক হিসেবে আনন্দবোধ করছি।
আঞ্জুমান: পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশবাসীর প্রতি নায়করাজের আহ্বান কি?
রাজ্জাক : আসুন, আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। হিংসা হানাহানির ঊর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে দেশের জন্য কাজ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *