জীবনের জন্য শারীরিক কার্যক্রম

GYMডা. এম. ইয়াছিন আলী : গত ৮ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল Physical Activity for Life. অর্থাৎ ‘জীবনের জন্য শারীরিক কার্যক্রম” এই আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির সঙ্গে তা মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা পুরাপুরি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। যেমন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে বা রিকশায় উঠে অফিসে যাচ্ছি, তারপর অফিসে ডেক্স-এ বসে কম্পিউটার বা লেখালেখি তারপর অফিস থেকে গাড়িতে উঠে জামের কারণে দুই থেকে তিন ঘণ্টা গাড়িতে বসে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে ক্ষুদার্ত উদর ভর্তি করে খাবার খেয়ে, মোবাইল বা লেপটপে কিছুক্ষণ ফেইসবুকিং করে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া। অন্যদিকে যদি আমাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্ণাধার শিশু কিশোরদের দিকে তাকায় তাহলে দেখতে পাব তাদের ও একই অবস্থা। খুব সকালে চোখ মুছতে মুছতে ব্যাগ ভর্তি বই নিয়ে স্কুলে যাওয়া তারপর একের পর এক টিউটর ও হোম ওর্য়াক শেষ করতে না করতেই চোখ ঘুম নিয়ে বিছানায়। এই হচ্ছে বাস্তবিক অর্থে আমাদের বেশির ভাগ কর্মজীবী মানষের দৈনন্দিন রুটিন। যার ফলে আমাদের Daily Physical Activity বা দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম হচ্ছে না বললেই চলে যার ফলে শরীরে বাসা বাঁধছে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অথ্রাইটিস, ওবেসিটি বা স্থূলতা, মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া, অষ্ঠিওপোরোসিস বা হাড়ের ভঙ্গুরতা ইত্যাদি। এসব কারণে সারা বিশ্বের সকল মানব-মানবীকে ফিজিক্যাল একটিভিটি বা শারীরিক কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি (উব্লিউ সিপিটি) এবারের ফিজিওথেরাপি দিবসের এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছেন। তাই আসুন প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মি. হাটি অথবা ৪৫ মি. ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করি অথবা সুযোগ থাকলে ৪৫ মি. সাঁতার কাটি অথবা সময় না পেলে অফিস থেকে বাসা কাছা-কাছি হলে ফেরার সময় গাড়িতে না উঠে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরলেন তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও ফিজিক্যাল একটিভিটি বাড়লো যা আপনাকে নিরোগ রাখতে সাহয্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *