প্রসঙ্গ : মিয়ানমার জেনোসাইড

16-7শাহীন রেজা : অত্যাচার চলছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর মিলিটারীদের হামলা-নির্যাতন স্মরণকালের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এ হামলায় বিশ্ববিবেক স্তম্ভিত, শোকগ্রস্ত। নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বত্র। শান্তির রানী (!) অং সান সু চিকে ঘৃণার অনলে দগ্ধ করছে মানুষ। কিন্তু তিনি নির্বিকার। পত্র পত্রিকায়, টেলিভিশনে, ফেসবুকে নির্যাতনের যে চিত্র উঠে আসছে প্রতিদিন তাতে স্থির থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, তাদের মুখ থেকে শোনা কাহিনী নির্বাক করে দিচ্ছে অন্যদের। এও কি সম্ভব? সভ্য পৃথিবীতে এ কোন অসভ্যতা, এ কোন বর্বরতা ?

মিয়ানমান সেনাবাহিনী দেশটাকে রোহিঙ্গা শূণ্য করার আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরু করে ১৯৭৮ সালে। সেই থেকে থেমে থেমে চলছে এ কার্যক্রম। বর্তমানে এটা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সকল মানবতাকামী মানুষদের মনে এটা রোধ করার একটা প্রচ্ছন্ন তাগিদ জন্ম নিয়েছে। এ তাগিদ যদি বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে হয়তো এ সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ভারত এবং চীনের ভূমিকা হতে হবে মূখ্য। বাংলাদেশকেও সাথী হতে হবে তাদের। অযুত শরনার্থীর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সামলাতে ক্ষুদ্র দেশটিকে যে সম্যায় পড়তে হবে তাতো একেবারেই নিশ্চিত। আলাপ আলোচনায় যদি এ জেনোসাইড বন্ধ না হয় তাহলে নিতে হবে ভিন্ন পন্থা। মিয়ানমারকে প্রথমে অবরোধ তারপর প্রয়োজন হলে তার বিরুদ্ধে নিতে হবে সামরিক ব্যবস্থা। যে কোন মূল্যে রক্ষা করতে হবে নিরীহ নির্যাতিত মানুষদের। গণধর্ষণ, গণহত্যার পাশাপাশি মাইন পুতে এমনকি অগ্নিশেল নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মারার মতো নির্মমতাকে রোধ করতে হবে দৃঢ় হাতে। কেড়ে নিতে হবে অং সান সু চি’র শান্তিতে পাওয়া নোবেলটি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এবং সকল বিরোধীদলকে পৌঁছুতে হবে একটি সরল সমীকরণে। বুঝতে হবে এ সমস্যা কারো একার নয়, এ সমস্যা যেমন মানবতার, তেমনি রাষ্ট্রের। এ থেকে পবিত্রাণ পেতে হলে এ মূহুর্তে ঐক্য ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *