ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য কি ইঙ্গিত দিচ্ছে?

 বৈচিত্র ডেস্ক : হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিতর্কিত জেরুজালেম শহরকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরও ঘোষণা করেছেন যে আমেরিকান দূতাবাস তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ নিয়ে সারা বিশ্বেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে কিভাবে প্রভাবিত করবে?

মি. ট্রাম্পের ভাষণের বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট। তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন, তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য কি ইঙ্গিত দিচ্ছে?

সংবাদদাতা লিজ ডুসেট বলছেন, যে ভাষায় মি. ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন, তা ফিলিস্তিনি বা আরব বিশ্ব একভাবে নেবে, ইসরায়েলিরা নেবে অন্যভাবে।
ট্রাম্প বলছেন, এর আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা একই চেষ্টা করেছেন (মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার, কিন্তু সেগুলো ফল দেয়নি। তাই আমি এখন সেটাই করছি।

লিজ ডুসেট মনে বলছেন, এটা একার্থে সত্যি যে এর আগের অনেক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি। তাই হয়তো এখন নতুন চিন্তাধারার দরকার। কিন্তু আমি মনে করি, এ ধরণের প্রচেষ্টাও এক্ষেত্রে কোন সফলতা দেবে না।

তিনি বলেছেন দীর্ঘ দিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়।

এ বছরের শুরুর দিকে একটি বিবৃতিতে রাশিয়াও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা উল্লেখ করেছে পশ্চিম জেরুজালেম, পুরো জেরুজালেম নয়। তবে লক্ষণীয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেম উল্লেখ করলেও, ইসরায়েলিদের ভাষায় “অভিন্ন জেরুজালেম তাদের চিরদিনের রাজধানী” বলে বর্ণনা করেননি।

লিজ ডুসেট বলছেন, এখানে লক্ষণীয় যে মি. ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, যদি উভয় পক্ষই চায়। এর মানে হচ্ছে, এতদিন ধরে যে দুই রাষ্ট্র নীতিতে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, তা থেকে মি. ট্রাম্প পিছু হটলেন।

ভাষণে মি. ট্রাম্প বলেছেন, অবশ্যই এই ঘোষণাকে ঘিরে মতভিন্নতার তৈরি হবে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, শেষপর্যন্ত আমরা একটি শান্তির দিকেই যাবো।

কিন্তু বিবিসির সংবাদদাতা লিজ ডুসেট বলছেন, উভয়পক্ষকে নিয়েই শান্তি নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু আজকের ঘোষণায় একপক্ষ খুবই রাগান্বিত বা ক্ষুব্ধ হয়েছে, আর আরেকপক্ষ আনন্দিত, এরকম পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়া আসলে সহজ নয়।

সূত্র : বিবিসি

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *