ভেজাল প্রসঙ্গে আরও কিছু কথা

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : ভেজাল এখন চতুর্দিকে, এমনকি রাজনীতি‘তেও এই শিরোনামে এ মাসেই আমার একটি লেখা প্রকাশ হয়েছে। তার পরও ভেজাল নিয়ে কিছু কথা আরও একবার না লিখে পারলাম না।বেশ মনে পড়ে যে, স্কুলের পাটীগণিতের বইয়ে ভেজালের অঙ্ক নিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন থাকতÑ ৫ সের দুধে ১ সের পানি মেশালে যদি ৩ টাকা লাভ হয়, তা হলে ৭ সের পানিতে তিন সের পানি মেশালে কত টাকা লাভ হবে? দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা বলেছিলাম ভেজালের অঙ্ক আমরা আর শিখতে চাই না। আমরা ভেজালমুক্ত দেশ গড়তে চাই। তাই পাঠ্যবই বদলাতে হবে। দুঃখের বিষয়, পাটীগণিতের পাতা থেকে ভেজালের অঙ্ক বিতাড়িত হলেও ভেজাল এখন স্থান করে নিয়েছে সমাজের সর্বত্র।

ভেজাল ও নকলের ছড়াছড়ি এখন সব জায়গায়। ফলমূল-শাকসবজি-চাল-আটা-তেল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল। জামা-কাপড়, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিছানাপত্র-আসবাবসামগ্রী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, যানবাহন-পরিবহন উপকরণ, নির্মাণসামগ্রী, কৃষি উপকরণে সর্বত্রই নকল ও ভেজালের উপদ্রব। ভয়ঙ্কর এই মুসিবত আজ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। লেখাপড়ায়, পড়াশোনার সার্টিফিকেটে, বিশেষজ্ঞ পরিচয়ের মধ্যে, কবিতা-প্রবন্ধ-নিবন্ধে চলছে নকলের কারবার। নিত্যদিনের সংসারজীবনের হাজারটি প্রয়োজনীয় উপকরণ হোক কিংবা ঘরের বাইরের রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি ক্ষেত্রেই হোক  এই ‘ভেজালের জগতের’ মাঝেই আজ আমাদের বাস।দূষণও এক ধরনের ভেজাল। এই ভেজালের প্রকোপে প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষেত্রে এমন ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, আমাদের এই প্রিয় পৃথিবীটি মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে আর হয়তো বেশি দেরি হবে না। জীবনের অস্তিত্বই এখন শঙ্কার মুখে পতিত।আইন-কানুন ও বিধিবিধানের অপপ্রয়োগ করে অর্থ বানানো তথা ঘুষ-দুর্নীতিও এক ধরনের সামাজিক ভেজাল। ঘুষ-দুর্নীতির প্রকোপ সামাজিক জীবনকে কলঙ্কিত ও অসহনীয় করে তুলেছে। পরিস্থিতির অবনতি হতে হতে ‘ঘুষের মধ্যেও এখন দুর্নীতি প্রবেশ করেছে।’খাদ্যে ভেজাল নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। খাদ্যে ভেজালের ব্যাপারটি হলো অনেকটাই একটি মনুষ্য সৃষ্টি ‘আধুনিক’ মুসিবত। প্রকৃতিতে ও তার কোলে লালিত প্রাণীকুলের মাঝে ভেজালের কারবার কখনই ছিল না, এখনো নেই। তা আছে শুধু মানুষের দ্বারা রচিত ‘আধুনিক’ সমাজে। মানব সমাজের প্রাচীন ইতিহাসে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ব্যাপারটি ছিল অস্বাভাবিকই শুধু নয়, অসম্ভব ও কল্পনাতীত একটি বিষয়। মধ্যযুগে কিংবা প্রাক-ব্রিটিশ যুগেও খাদ্যে ভেজালের নিদর্শন তেমন একটা পাওয়া যায় না। কেবল নিকট-অতীতে, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে আমাদের দেশে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ‘কারবার’ শুরু হয়েছে। তখন থেকেই দুধে পানি মেশানো, চালে কাঁকর মেশানো, ঘি-তেলে নানা ভেজাল মেশানো ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে এসব কারবার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ভেজালের এসব কারবার প্রথমে গড়ে ওঠে প্রধানত শহরগুলো কেন্দ্র করে। মফস্বলে ভেজালের প্রচলন ছিল নগণ্য। আর গ্রামাঞ্চলে ভেজালের ‘কারবারের’ উপস্থিতি ছিল প্রায় অনুপস্থিত। এ দেশে ভেজালের রোগ প্রবেশ করেছে মূলত ব্রিটিশ শাসকদের হাত ধরে। মুনাফাতাড়িত পুঁজিবাদী সভ্যতার (আসলে অসভ্যতার!) অনুষঙ্গরূপেই জন্ম নিয়েছে ভেজালের অমানবিক কারবার। কিন্তু দিন দিন তথাকথিত ‘আধুনিক’ সভ্যতার (অর্থাৎ পুঁজিবাদের) প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, সর্বত্রই ভেজালের সর্বব্যাপী প্রসার ঘটে বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা দুনিয়ায়ই খাদ্যে ভেজালের বিষয়টি আজকাল এক ভয়াবহ বিপজ্জনক বাস্তবতা। আমেরিকা, ইউরোপসহ ধনী দেশগুলোয় কঠোরভাবে খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণের দ্বারা তা রোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যে ভেজালের বিষয়টিকে যে ‘নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার’ প্রয়োগ দ্বারা রোধ করার চেষ্টা করতে হচ্ছে এবং সেই ‘নিয়ন্ত্রণ-কার্যক্রম’ যে ক্রমাগত কঠোর থেকে কঠোরতর করতে হচ্ছেÑ তার দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, সেসব দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার মাঝেই নিহিত আছে ‘ভেজাল প্রবণতার’ মৌলিক উৎস। আমাদের দেশ এখন পশ্চিমা সেসব দেশের মতো করে মুনাফা-লালসাতাড়িত পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এই দেশে যতটা দ্রুত ও বেপরোয়াভাবে এই ব্যবস্থা প্রসার লাভ করছে, ‘খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সেই তুলনায় একেবারেই গড়ে ওঠেনি। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় এবং এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায়ও বাংলাদেশে ভেজাল-খাদ্য ও খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ব্যবসা একটি অনিয়ন্ত্রিত প্রাণঘাতী মরণব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।দেশি-বিদেশি প্রায় সব ধরনের ফল-ফলারি আজকাল কার্বাইড মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানোর ব্যবস্থা করা হয়। পচন রোধের জন্য এসবের ওপর স্প্রে করা হয় ফরমালিন। শাকসবজির ক্ষেত্রেও একই দশা। রঙ করা পানিতে ডুবিয়ে সেসবের আবরণকে উজ্জ্বল করা হয়। তা ছাড়া শাকসবজি ও ফলমূল চাষে ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত ও হাইপটেন্সির সব কীটনাশক। এসব বিষ গাছের সিস্টেমে প্রবেশ করে শেষ পর্যন্ত ফলমূল, শাকসবজির একেবারে কোষের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এ কারণে শতবার পানি দিয়ে ধুয়েও এই বিষের প্রভাব দূর করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। দোকানে জিলাপি, চানাচুর, ডালপুরি ইত্যাদির চেহারা ও রঙ আকর্ষণীয় করার জন্য সেসব ভাজার সময় তেলের সঙ্গে মবিল মেশানো হচ্ছে। বিস্কুট, সেমাই, লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদিতে কাপড় বা চামড়া কালার করতে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক রঙ মেশানো হচ্ছে। ধবধবে সাদা ও মচমচা মুড়ি বাজারজাত করার জন্য তা ভাজতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরিয়া, হাইড্রোজ ইত্যাদি।এদিকে পশুখাদ্যেও ভেজালের কোনো সীমা নেই। দ্রুত মোটাতাজা করার জন্য দেদার চলছে ইউরিয়া মিশ্রিত পশুখাদ্যের ব্যবহার। ট্যানারির বর্জ্য থেকে শুরু করে ফেলে দেওয়া সব রকম অখাদ্য মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে অ্যানিমেল-ফিড। খামারের গরু, হাঁস-মুরগি, মাছ প্রভৃতিকে খাওয়ানোর জন্য তা ব্যবহার করা হচ্ছে। গরু, মুরগি, মাছ ইত্যাদি খাচ্ছে বিষাক্ত খাদ্য আর মানুষ খাচ্ছে সেই মাংস-মাছ। সেসব খেয়ে সাধারণ মানুষ বিষাক্রান্ত হচ্ছে। সর্বত্র লাগামহীনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেনেটিকালি মডিফাইড’ বীজের ব্যবহার। ছেয়ে গেছে ‘হাইব্রিড’ গরু-মুরগি-শাকসবজির ব্যবহার। বাজারে দেশি গরু-মুরগি-বেগুন-টমেটো খুঁজে পেতে হয়রান হতে হচ্ছে। জিএম, হাইব্রিডিÑ এসবও এক ধরনের ভেজাল। এমনকি খাওয়ার পানিতেও এখন দূষণ। বোতলজাত পানিতেও ভেজাল। মানুষ যাবে কোথায়? খাবে কী? বাঁচবে কীভাবে?ভেজাল খাদ্য মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ভেজাল খাবার খেয়ে অনেকের দেহে অজান্তেই বাসা বাঁধছে নানারকম মরণব্যাধি। বেড়ে যাচ্ছে নতুন নতুন রোগ ও সেসব রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা। ভেজালের প্রভাবে মানুষ হৃদরোগ, কিডনি, লিভার, ক্যানসারসহ হরেকরকম মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি সমস্যা, খাদ্যে অরুচি, আলসার ইত্যাদি সাধারণ অনেক রোগের পাশাপাশি লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলইউর, ক্যানসার, অস্থিমজ্জার অস্বাভাবিকতা, লিউকোমিয়া ইত্যাদির মতো মারাত্মক রোগ জন্ম নিচ্ছে।খাদ্যে ভেজালের ‘কারবার’ এখন আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ঘাতক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ভেজাল খাদ্য খেয়ে ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যেকের আয়ু কিছুটা করে কমছে। এর সবটা যোগ করলে তা হবে লাখ লাখ মানুষের মোট আয়ুষ্কালের সমান। তা ছাড়া ভেজাল খেয়ে সরাসরি রোগাক্রান্ত হয়ে মরছে হাজার হাজার মানুষ। তাই এ কথা বলা যায় যে, একাত্তরের গণহত্যার ৩০ লাখ শহীদের চেয়ে ভেজাল-খাদ্য নামের নীরব হত্যাকারীর শিকারের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তদুপরি এই নীরব ও ছদ্মবেশী গণহত্যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না। বরং তার আক্রমণের রূপ ও ভিকটিমের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।প্রশ্ন হলো, সমাজে ভেজালের এরূপ ক্রম-প্রসরমান সংক্রমণের কারণ কী? এটি কী নিছক বিচ্ছিন্ন প্রবণতা, নাকি এর পেছনে আছে ‘ব্যবস্থাগত’ কোনো মৌলিক কারণ? যারা খাদ্যে ভেজাল দেয় তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কিন্তু মানুষের শরীর, স্বাস্থ্য, জীবনের ক্ষতি করা নয়। এই ক্ষতিসাধিত হয় পরোক্ষভাবে। এ কথা ‘ভেজালদারদের’ কাছে মোটেও অজানা নয় যে, খাদ্যে ভেজাল মানুষের শরীর, স্বাস্থ্য, আয়ু ও জীবনের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। এ কথা জেনেও ‘ভেজালদাররা’ তা হলে খাদ্যে ভেজাল মেশায় মূলত কোন উদ্দেশ্যে? তা তারা করে প্রধানত আরও বেশি অর্থ বানানোর লোভে। মুনাফার জন্য দানবীয় লালসায়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রাণভোমরা হলো ‘মুনাফার তাড়না’। মুনাফা বাড়ানোর সেই উন্মত্ত লালসাই হলো পুঁজিবাদ ব্যবস্থার অভ্যন্তরে গতি সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে প্রণোদনার মৌলিক উৎস। সেই তাগিদ থেকেই উৎসারিত হয় অর্থ বানানোর নানা পন্থা। ভালো-মন্দ বা শুভ-অশুভের ফারাকটা সে ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে যায়। ভেজালের কারবারে যেহেতু লাভ বেশি তাই কেনাবেচা ও ব্যবসার সামগ্রীতে ভেজাল মিশিয়ে বাড়তি মুনাফা করার প্রবণতা হলো পুঁজিবাদের স্বাভাবিক প্রবণতা। পুঁজিবাদের ধারায় পরিচালিত একটি দেশে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্বারাই কেবল ভেজালের সম্ভাব্য প্রসারকে সীমিত রাখা সম্ভব হয়। কিন্তু অর্থনীতিই নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উপরিকাঠামোকে। তাই শেষ পর্যন্ত জয় হয় বিপুল পরিমাণে অর্থ বানানোর ‘সহজ’ পথের তথা ভেজালের কারবারের।খাদ্যে ভেজালের তুলনায় খাদ্যবহির্ভূত অন্যান্য সামগ্রীতে ভেজাল ও নকলের বিষয়টি আরও পুরনো ও প্রাথমিক। সমাজে খাদ্য বাদে অন্যান্য যেসব সামগ্রী তৈরি হয় সেসব ক্ষেত্রে ভেজালের পাশাপাশি চলছে নকলের প্রায় অবাধ কারবার। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এটিও একটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেনতেন পন্থায় অর্থ বানানোটাই ভেজাল ও নকলের কারবারের প্রত্যক্ষ ও প্রধান উদ্দেশ্য। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ‘গলাকাটা প্রতিযোগিতার’ স্বাভাবিক ফলাফল হলো এ ধরনের ‘অনৈতিক’ প্রবণতা।এক অর্থে বললে, নকল হলো ভেজালেরই আরেকটি বিশেষ রূপ। সস্তা উপাদান দিয়ে একটি সামগ্রী তৈরি করে সেটিকে অনেক দামি বলে চালিয়ে দেওয়াকে যদি নকল বলে গণ্য করা হয়, তা হলে সেটি হলো আসলে ভেজালের আরেকটি রূপ। কোন পণ্য নকল হয় না? নকলরূপী ভেজালের আশ্রয় নেওয়া হয় প্রধানত স্রেফ অর্থ বানানোর প্রতিযোগিতামূলক দানবীয় লালসায়। এই লালসার সামনে নীতি, নৈতিকতা, মানবিকতা, বিবেক, দেশপ্রেম ইত্যাদি সব মূল্যবোধই তুচ্ছ ও পরিত্যাজ্য হয়ে পড়ে। আমাদের চতুর্দিকে নকলরূপী ভেজালের এসব খোলামেলা কারবার আমরা হরহামেশাই দেখে চলেছি।কিছুদিন আগে ভেজালের এই বিবেকহীন কারবারের চরম লজ্জাজনক নিদর্শন দেখা গিয়েছিল। রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা ক্রেস্টের সোনায় ভেজালের ঘটনায় তা প্রকাশ পেয়েছিল। সম্মাননাপ্রাপ্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে এভাবে ভেজাল ক্রেস্ট প্রদান করে প্রতারিত করা হয়েছিল। এর ফলে অন্যান্য অনেক কিছুর সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানমর্যাদা-সম্মানকে ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।আরও বেশি-বেশি অর্থ বানানোই হলো পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল প্রণোদনা। ভেজাল ও নকলের কারবার হলো অর্থ বানানোর একটি উৎকৃষ্ট ও সহজ উপায়। সে কারণে এ কথা খুবই স্পষ্ট যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থাই হলো ভেজালের কারবারের জন্মদাতা। ‘ভেজাল ও নকলমুক্ত পৃথিবী’ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সে কারণে প্রয়োজন ‘পুঁজিবাদমুক্ত পৃথিবী’ প্রতিষ্ঠা করা।মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *