সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ

বৈচিত্র ডেস্ক : বিভিন্ন দেশ থেকে সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় (সুইস ব্যাংক) অর্থ পাচারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে সুইস সরকার। তাদের দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় যারা অর্থ রাখবেন, সেসব অর্থের সঙ্গে যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকা- জড়িত থাকে, তবে সেসব গ্রাহকের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে সরবরাহ করবে। সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সুুপারিশের ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) এ ধরনের আইনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এটি এখন সুইস কেন্দ্রীয় ফেডারেল সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।সুইস ব্যাংকে গ্রাহকদের আমানতের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার সুইস সরকারের সার্বিক আইন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। একই সঙ্গে আমানতকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টি সুইস ফেডারেল সংবিধানের বিধি দ্বারা সুরক্ষিত। তবে ওই আইনে আমানতকারীর অর্থ কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে জড়িয়ে থাকলে এই আইন দ্বারা আমানতকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষা দেওয়ার আওতায় পড়বে না। সেটি অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে বা অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রেÑ যে কোনো ক্ষেত্রেই হোক না কেন।

এরই মধ্যে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইনের ওই সব বিধি সুইস বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। আগে যেসব বেনামি হিসাব ছিল সেগুলোকে এখন নামীয় হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে। যেসব গ্রাহকের পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সেগুলো আলাদা একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন এখন মনে করছে, তাদের দেশের ব্যাংকগুলোয় এখন কোনো বেনামি হিসাব নেই।তাদের ব্যাংকিং খাতের প্রতিটি গ্রাহকের হিসাব একটি কোড নাম্বারের অধীনে পরিচালিত হবে। তবে হিসাবের নেপথ্যে গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বিদেশি নাগরিক হলে তার পাসপোর্ট নাম্বার অবশ্যই রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের উত্তরাধিকারও নেওয়া হচ্ছে। সঞ্চয়ী হিসাব খোলার সময় এখন জমা টাকার উৎস সম্পর্কেও গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্যাদিও দিতে হচ্ছে।সুইজারল্যান্ড বা উন্নত দেশের ব্যাংকগুলোয় নগদ অর্থের লেনদেন কম। বেশিরভাগ লেনদেনই হয় অনলাইনে। ফলে সব লেনদেনের তথ্য থাকছে। এখানে লুকানোর কিছুই নেই। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এটি যে কোনো সময় তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য জেনে নিতে পারে। বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব গ্রাহক সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখেন তারাও কোনো একটি পর্যায়ে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জমা দেন। ফলে অর্থের উৎস খুঁজে বের করা কোনো কঠিন বিষয় নয় বলেই মনে করে সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন।নতুন আইন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে জমা অর্থের বিপরীতে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে বা আগে হয়ে থাকলে গ্রাহকের তথ্য দিতে কোনো বাধা থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে এখনো কোনো চুক্তি করতে পারেনি।সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জমা অর্থের বিপরীতে কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে সেই অপরাধের তদন্তের জন্য সুইস ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের পরিচয় প্রকাশ করতে পারবে। এখন সেই অপরাধ সুইজারল্যান্ডেই হোক বা অন্য কোনো দেশেই হোক। এতে আইনগত কোনো বাধা নেই।সুইস ব্যাংকগুলোয় সারা বিশ্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ জমা রাখা হয় বলে দুর্নাম রয়েছে। এর মধ্যে কালো টাকাই বেশি। গ্রাহকদের গোপনীয়তার কারণে কালো টাকার মালিকরা সুইস ব্যাংকগুলোয় টাকা রাখতে উৎসাহিত হয়। এ কারণে সুইস ব্যাংকিং রীতি বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। এই সমালোচনার হাত থেকে বাঁচতেই সুইস সরকার এসব উদ্যোগ নিয়েছে।এর আগে সুইস ব্যাংক জানিয়েছে, পাকিস্তান, ভারতসহ ২২টি দেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে এসব দেশের নাগরিকদের রাখা অর্থের তথ্য দেবে সুইস ব্যাংক। দেশটি ২০১৮ সালের মধ্যে ওই সব দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এর আওতায় তারা এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশকে দেবে।যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি করবে সুইজারল্যান্ড সেগুলো হচ্ছেÑ অ্যান্ডোরা, আর্জেন্টিনা, বারবাডোস, বুরুন্ডি, ব্রাজিল, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, গ্রিনল্যান্ড, ভারত, ইসরায়েল, মরিশাস, মেক্সিকো, মোনাকো, নিউজিল্যান্ড, স্যান ম্যারিনো, রিপাবলিক অব সিসেলস, দক্ষিণ আফ্রিকা, টার্কস অ্যান্ড কায়কোস আইল্যান্ডস ও উরুগুয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *