বৃষ্টি থাকবে আজও

বৈচিত্র রিপোর্ট  : ঋতুচক্রের নিয়মে ডিসেম্বরের শুরুতেই  হিমালয় পর্বতমালা হয়ে শীতের বাতাস দেশের উত্তরাঞ্চলে  হয়ে শীত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। কিন্তু এ বছর শীতের ওই বাতাস ঠেকিয়ে দিচ্ছে বঙ্গোপসাগর। তিন দিন আগে সেখানে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শীতের ওই বাতাস তো আটকে দিচ্ছেই, সেই সঙ্গে সারা দেশে বৃষ্টি ঝরাচ্ছে। আজ রোববার এবং আগামীকাল সোমবারও এই বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ দেশের অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি সক্রিয় থাকায় আজও দেশের চারটি বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে তারা। নিম্নচাপের কারণে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর বলছে, পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এ সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এতে বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত কমে আগামীকালের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তবে আগামীকাল দেশের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’

এদিকে পরিমাণ কম হলেও গতকাল শনিবার সারা দিন রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে সারা দিনে মোট বৃষ্টি হয়েছে মাত্র চার মিলিমিটার। তবে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি মোটেই কম ছিল না। সামান্য বৃষ্টিতে রাজধানীর পথ-অলিগলি কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে। গতকাল বন্ধের দিন সত্ত্বেও অনেকে নানা কাজে বাড়ির বাইরে বের হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছে অনেকেই।

দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দুর্ভোগ ছিল আরও বেশি। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় ৬০০ পর্যটক আটকা পড়েছেন। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে টেকনাফেও সেন্ট মার্টিনের প্রায় ৩৫০ বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। একই অবস্থা রয়েছে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা এলাকায়ও। পর্যটকেরা বাইরে বের হতে পারেননি।

গতকাল দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে মোংলায়, ৩৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কক্সবাজার ও টেকনাফে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে গতকাল।