গণতন্ত্র আছে বলেই ফখরুল সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন'

গণতন্ত্র আছে বলেই ফখরুল সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন'

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির গণআন্দোলনের ডাক হাস্যকর। মির্জা ফখরুল সাহেবের কথায় তার দলের নেতাকর্মীরাই সাড়া দেয় না। তার মুখে গণআন্দোলনের ডাক শোভা পায় না।

আজ শনিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ সেমিনার ও প্রেস কাউন্সিল পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের গণঅভ্যুত্থানের ডাক সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল সাহেব যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েক শ নেতাকর্মী আর কিছু টোকাই নিয়ে যে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন তা হাস্যকর। এইকথা তারা গত সাড়ে ১২ বছর ধরে বলে আসছেন। আসল কথা হচ্ছে, মির্জা ফখরুল সাহেবদের কথায় এখন কর্মীরাও সাড়া দেয় না।

‘আওয়ামী লীগ ছদ্মবেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে’ বিএনপির এমন মন্তব্যের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দেশে বহুদলীয় বহুমাত্রিক গণতন্ত্র বিদ্যমান। জাতীয় সংসদে বিএনপিসহ বহুদলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। মির্জা ফখরুল সাহেব নিজেই সকাল-বিকাল সরকারের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ সমালোচনা করছেন। এ থেকে প্রমাণ হয় দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, বাকস্বাধীনতাও রয়েছে।’

এর আগে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সংবাদকর্মী, সংবাদপত্র এবং পাঠকসমাজের অধিকার রক্ষায় প্রেস কাউন্সিলের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা করে মন্ত্রী জানান, প্রেস কাউন্সিলকে আরো শক্তিশালী করতে প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের প্যানেল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং সচিব মো. মকবুল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা স্বাগত বক্তব্য ও প্রেস কাউন্সিলে সদস্য ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং নঈম নিজাম আমন্ত্রিত বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেন। 'বাঙালির সব সাহসের উচ্চারণ বঙ্গবন্ধু' শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে এ বছরের ১০ এপ্রিল প্রয়াত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারকে প্রেস কাউন্সিলের আজীবন সম্মাননা পদক (মরণোত্তর), দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকাকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা, চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোণকে আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা, গ্রামীণ সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক নিজামুল হক বিপুল, উন্নয়ন সাংবাদিকতায় দি নিউজ টুডে'র সিনিয়র সাংবাদিক মাজহারুল ইসলাম মিচেল, নারী সাংবাদিকতায় দি ডেইলি অবজারভারের বনানী মল্লিক ও ফটোসাংবাদিকতায় বাংলা ট্রিবিউন অনলাইন পত্রিকার মো. সাজ্জাদ হোসেনের হাতে পদক তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।