বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি রাজবাড়ীতে

বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি রাজবাড়ীতে

রাজবাড়ীতে হু হু করে বাড়ছে পদ্মার পানি। ফলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকার বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে এবং তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি। ফলে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে যা শনিবার বিকাল পর্যন্ত ৭৪ পাংশার সেনগ্রামে ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬৫ ও রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুরে ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

এতে করে রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়লেন্দের পদ্মা নদী তীরবর্তী ১৩টি ইউনিয়নের ৬৭ গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ গো-খাদ্যের সংকট। এ ছাড়া চলাচলে রয়েছে ভোগান্তি। শনিবার সকালে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ লিডার সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

এদিকে, নিম্নাঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক শ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে এবং ভাঙন আতঙ্ক বাড়ছে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী জেলায় সাড়ে ৭ হাজার ৫১৫ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তালিকা অনুযায়ীদের তাদের চাল, ডাল, তেল, লবণ, স্যালাইন, মুড়ি, মোমবাতি দেওয়া হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক জানান, দুর্গত এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। উপজেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যা অনুযায়ী জেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামের ৭হাজার ৫১৫টি পানিবন্দি পরিবারের তালিকা পেয়েছেন এবং নতুন করে পানিবন্দিদের তালিকা করা হচ্ছে।